June 23, 2017, 2:28 am | ২২শে জুন, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, রাত ২:২৮

রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

president20130320051220ঢাকা জার্নাল: রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে ৩ েদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার।

বুধবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেন ভূঁইঞা এ কথা জানান।

গত ৯ মার্চ অসুস্থ হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। গত ১১ মার্চ সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

বুধবার বাংলাদেশ সময় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে বিকেল চারটা পয়তাল্লিশ মিনিটে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর।

জিল্লুর রহমানের জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে ।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি আইন জারির পর ওই বছরের জুলাই মাসের এক রাতে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে তিনি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, “জিল্লুর রহমান ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের পর ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সেটা তিনি পেরেছিলেন।”

দীর্ঘ ১১ মাস শেখ হাসিনার জেলজীবন এবং চিকিৎসার জন্য আরও প্রায় ৬ মাস দেশের বাইরে অবস্থানকালে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে জিল্লুর রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন দলের নেতৃবৃন্দ।

তার আরেক সহকর্মী আওয়াম লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চার বছর কারাগারে ছিলেন জিল্লুর রহমান। জেল থেকে বেরিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন। তবে এবার স্ত্রীর মৃত্যুর আঘাত না পেলে আরো অনেক বছর তিনি সুস্থ জীবন যাপন করতে পারতেন বলে আমি মনে করি।”

রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ২০০৯ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি নবম জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এম.এ. ও এল.এল.বি. ডিগ্রী লাভ করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রীয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তিতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন , ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান থেকে একাত্তরে স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনসহ ‘৭৩, ‘৮৬, ‘৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগনঞ্জ জেলার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জিল্লুর রহমান। এর আগে ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

১৯৭৫ সালে তিনি বাকশালের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মারা যান জিল্লুর রহমানের স্ত্রী, মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভানেত্রী আইভী রহমান। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলে নাজমুল হাসান জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি।

তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল